কোভ্যাক্সিন (Covaxin) - এটি কি আপনার জন্য নিরাপদ?
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত নিজস্ব করোনাভাইরাসের টিকা পেয়েছে, যার নাম কোভ্যাক্সিন (Covaxin)। এখনও অনেকেই এই টিকার কার্যকারিতা ও ফলাফল নিয়ে সন্দিহান। কিন্তু, কোভ্যাক্সিন কি আপনার জন্য নিরাপদ? ২০২০ সাল মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মহামারির সাক্ষী। প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহরের প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
সেখান থেকেই ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে এই সংক্রমণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ২০২০ সালে যখন কোভিড-১৯ (Covid-19) ভাইরাস প্রথম ভারতের ভূখণ্ডে ধরা পড়ে, তখন এটিকে খুব গুরুতরভাবে নেওয়া হয়নি, সংবাদমাধ্যমেও তেমন আলোচনায় ছিল না এবং মানুষও খুব বেশি জানত না। তাই জীবন প্রায় স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, যতক্ষণ না কোভিড-১৯ মহামারি ভারতে প্রকট রূপ নিতে শুরু করে।
করোনাভাইরাস এক ধরনের বড় ভাইরাস পরিবার, যা সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে মানুষের শরীরে মারাত্মক অসুস্থতা পর্যন্ত ঘটাতে পারে। কোভিড-১৯ ভাইরাসকে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস বা নোভেল করোনাভাইরাস (Novel Coronavirus) বলা হয়েছিল, কারণ এটি আগে অজানা ও একেবারে নতুন ধরনের ভাইরাস ছিল।
ভারতে প্রথম COVID-19 রোগী
ভারতে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি। কেরালার ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যার চীনের উহান শহরে ভ্রমণের ইতিহাস ছিল, তার শরীরে নোভেল করোনাভাইরাসের হালকা উপসর্গ ধরা পড়ে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে ভারতে হঠাৎ করেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং ডায়াবেটিস, ফুসফুস বা হৃদরোগ, অথবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষদের ঝুঁকি বেশি ছিল।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ভারতে মোট কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১.০৮ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ১.০৫ কোটি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং প্রায় ১,১৫,০০০ মানুষ এই ভয়াবহ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। সারা বিশ্বে মোট প্রায় ১০.৬ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, প্রায় ১০.৫ কোটি সুস্থ হয়েছেন এবং মহামারির কারণে মোট প্রায় ২৩.২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ভারতে লকডাউন
মার্চ মাসে ভারতে প্রথম লকডাউন শুরু হয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারত সরকার ২৪ মার্চ ২০২০ তারিখে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করে। লকডাউনের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়া সবকিছুই প্রায় বন্ধ ছিল, তাই মানুষ এমনকি অনলাইনে ওষুধ অর্ডার করছিলেন।
কোভ্যাক্সিন (Covaxin) - ভারতে কোভিড-১৯ টিকাকরণ
দীর্ঘ দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার পর টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা মানুষের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে। একাধিক ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (Clinical Trial) পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এখন বড় প্রশ্ন হল – এই টিকাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য কতটা নিরাপদ? একটি টিকা হল কোভিশিল্ড (Covishield), যা সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া তৈরি করেছে এবং অন্যটি হল কোভ্যাক্সিন (Covaxin), যা ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) তৈরি করেছে।
ভারতে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয় ১৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে। এখন পর্যন্ত ৫০ লক্ষেরও বেশি কোভিড-১৯ টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে এবং ভারত বায়োটেক ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উপর কোভ্যাক্সিনের ট্রায়াল শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারত বায়োটেক যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের সঙ্গে কোভ্যাক্সিন রপ্তানি ও আউটসোর্সিংয়ের জন্যও চুক্তি করেছে।
কোভ্যাক্সিনের নিরাপত্তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, কেবলমাত্র কিছু প্রাথমিক ধারণা বা অনুমান করা যায়। তবে কোভ্যাক্সিন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে, যা আপনি নিচে পড়লে জানতে পারবেন।
কোভ্যাক্সিন নেওয়ার পর যে কয়েকটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, সেগুলো হল ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলা এবং টিকা নেওয়ার পর সামগ্রিক ব্যথা বা অস্বস্তি। এমনকি কোভ্যাক্সিনের উদ্ভাবক ভারত বায়োটেক নিজেই সতর্ক করে বলেছে, যাদের জ্বর আছে, রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা আছে, তীব্র অ্যালার্জি, খুব দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অথবা যাঁরা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করছেন – তাঁদের এই টিকা না নেওয়াই ভালো। এমন শারীরিক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের কোভ্যাক্সিন না নেওয়ার পরামর্শই দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশ অনুযায়ী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলাদেরও এই টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণে এখন পর্যন্ত ২৩৬০ জন প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, ৬১,০০০-এর বেশি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ৩,৭০,০০০ টিকাদান দলের সদস্য এবং ২,০০,০০০-এরও বেশি ভ্যাকসিনেটরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের টিকা ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তিতে উল্লেখ আছে, টিকা দেওয়ার পর কোনো গুরুতর প্রতিক্রিয়া হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই বহন করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকা গ্রহণকারীদের হাতে একটি তথ্যপত্র (Fact Sheet) এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানানোর ফর্ম দেওয়া হবে, যেখানে টিকা নেওয়ার পর প্রথম সাত দিনের মধ্যে যদি জ্বর, ব্যথা, ইনজেকশন স্থানে লালচে ভাব ইত্যাদি কোনো উপসর্গ দেখা যায়, তা সেখানে লিখে জানাতে হবে।
উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য
কোম্পানির দাবি, ফেজ ১ ও ফেজ ২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কোভ্যাক্সিন শরীরে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি (Antibody) তৈরি করার ক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিনের প্রকৃত কার্যকারিতা বা দক্ষতা (Efficacy) কতটা, তা এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি, কারণ ফেজ ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো চলমান।
যদিও সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হল দেশের সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদের আগে টিকা দেওয়া, খুব শিগগিরই ধাপে ধাপে সব নাগরিকের জন্যও টিকা পাওয়া যাবে। টিকা নেওয়া সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
Recent Blogs
Disclaimer : Zeelab Pharmacy provides health information for knowledge only. Do not self-medicate. Always consult a qualified doctor before starting, stopping, or changing any medicine or treatment.
Related Products
Need Medicines Quick?
Share location to check quick delivery serviceability.
Change Location
Location Access Needed
Your location appears to be blocked or disabled.
Please enable the location from your browser or
device settings.
₹ 0
0
Items added
Quick Links
Categories
Our Policies
2026 Copyright By © Zeelab Pharmacy Private Limited. All Rights Reserved
Our Payment Partners
Added!
|
|